যারা এখনও ভোটার আইডি কার্ড করেন নি। তারা নতুন নিয়মে ২০২৩ সালে ভোটার রেজিষ্ট্রেশন করতে পারবেন ঘরে বসেই। কিভাবে নতুন ভোটার হবেন সেটাই আজকের আলোচনার বিষয়। যেহেতু জাতীয় পরিচয় পত্র সকলের খুবই গুরুত্বপূর্ণ একটি ডকুমেন্ট তাই সকলেরই উচিৎ নতুন ভোটার রেজিস্ট্রেশন করে ফেলা।
সবাই একটু চিন্তার মধ্যে থাকেন যে কোথায় গিয়ে নতুন ভোটার হবেন, উপজেলা নির্বাচন অফিসে গিয়ে নাকি অনলাইনে, ভালো হয় যে, আপনি নির্বাচন অফিসে গিয়ে নতুন ভোটার হলে সবচেয়ে ভালো হয়। কিন্তু এটি একটি ভোগান্তির প্রক্রিয়া তাই আপনি চাইলে ঘরে বসে ভোটার আইডি কার্ড বা জাতীয় পরিচয় পত্র রেজিস্ট্রেশনের জন্য অনলাইনে আবেদন করতে পারেন। তারপর প্রয়োজনীয় ডকুমেন্টস এবং আবেদন ফরম সাথে করে নিয়ে নির্বাচন কমিশন অফিসে জমা দিতে পারেন।
![]() |
| নতুন ভোটার নিবন্ধন ২০২৩ |
নতুন ভোটার রেজিস্ট্রেশন এর জন্য আবেদনের নিয়ম
আপনি যদি এর আগে ভোটার না হয়ে থাকেন বা এনআইডির জন্য রেজিস্ট্রেশন না করে থাকেন তাহলে আপনি আপনার নিকটস্থ উপজেলা নির্বাচন অফিসে গিয়ে নতুন ভোটারের জন্য আবেদন করতে পারেন তবে সবচেয়ে ভালো হচ্ছে অনলাইনে আবেদন করা কারণ নির্বাচন অফিসে প্রচুর ভোগান্তি রয়েছে অনলাইন আবেদন করলে এই ভোগান্তি থেকে রক্ষা পেতে পারেন।
নতুন ভোটার হওয়ার জন্য আবেদন কিভাবে করবেন
অনলাইনে নতুন ভোটারের আবেদন করার জন্য আপনি নিচের লিংকে প্রবেশ করুন।
নতুন নিবন্ধনের জন্য আবেদন করুন নামে একটি অপশন পাবেন সেখানে আবেদন করুন অপশনে ক্লিক করে ভিতরে প্রবেশ করুন
![]() |
| আবেদন করুন অপশনে ক্লিক করুন |
তারপর এখানে ইংরেজিতে আপনার পুরো নাম লিখুন
তারপর জন্ম তারিখ লিখুন অবশ্যই আপনার জন্ম নিবন্ধন বা আপনার যদি কোন একাডেমিক সার্টিফিকেট থাকে তাহলে সেই অনুযায়ী লিখুন।
এখানে ইংরেজিতে নাম ও জন্ম তারিখ লেখার সময় কখনোই ভুল করবেন না কয়েকবার ভালো করে দেখে শুনে ইংরেজি নাম এবং জন্ম তারিখটি লিখুন।
তারপর নিচে ক্যাপচাটি পূরণ করুন, এবং পরবর্তী ধাপ মানে বহাল বাটনে ক্লিক করুন।
![]() |
| ইংরেজীতে নাম ও জন্ম তারিখ লিখুন |
পরবর্তী ধাপে আপনাকে একটি মোবাইল নাম্বার প্রদান করতে হবে, এখানে যদি আপনার মোবাইল নাম্বার না থাকে তাহলে আপনি আপনার বাবা-মা অথবা ভাই-বোন কারো একটা নাম্বার দিন, তারপর বার্তা পাঠান বাটনে ক্লিক করুন। এবার আপনি যে নাম্বার দিয়েছেন সেই নাম্বারে একটি যাচাই-করণ কোড যাবে ওই কোড নাম্বারটি এখানে লিখুন, তারপর বহাল বাটনে ক্লিক করুন।
![]() |
| মোবাইল নম্বর দিন |
পরবর্তী ধাপে একটি ইউজারনেম এবং পাসওয়ার্ড সেট করে দিবেন। যাতে যেকোনো সময় ইউজারনেম ও পাসওয়ার্ড ব্যবহার করে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করতে পারেন।
ইউজার নেম বলতে আপনার নাম দিবেন আপনার নাম যদি দিতে সমস্যা হয় তাহলে আপনার নামের শেষে ১২৩ বা ২০০৫-১৯৯০ ইত্যাদি সংখ্যা বসিয়ে ইউজারনেম দিবেন দিবেন। এবং মোটামুটি কঠিন একটা পাসওয়ার্ড দিবেন।
মনে রাখার সুবিধার্থে ইউজার নেম এর জায়গায় আপনি আপনার মোবাইল নাম্বারও দিতে পারেন।
![]() |
| ইউজারনেম ও পাসওয়ার্ড দিন |
পরবর্তী ধাপে আপনার প্রোফাইলে লগইন হয়ে যাবে। এখানে আপনার বিস্তারিত প্রোফাইল থেকে এডিট বাটনে ক্লিক করুন। এরপর একটা একটা করে আপনার সকল তথ্য ইনপুট দিবেন।
![]() |
| বিস্তারিত প্রফাইল |
নাম পিতার নাম মাতার নাম এগুলো দেওয়ার ক্ষেত্রে সতর্কতা অবলম্বন করবেন এবং বানান অবশ্যই কয়েকবার রিভিশন দিয়ে চেক করবেন।
বিশেষ করে জন্ম নিবন্ধন নাম্বার এন আই ডি নাম্বার বাড়ির হোল্ডিং নাম্বার ওয়ার্ড নাম্বার ইত্যাদি বিষয়গুলো ইমপোর্ট করার সময় বারবার চেক করে নিবেন।
স্টার চিহ্নিত করা ঘর গুলো অবশ্যই পূরণ করতে হবে।
এখানে তিন ধরনের তথ্য পূরণ করতে হবে প্রথমত ব্যক্তিগত তথ্য তারপরে অন্যান্য তথ্য এবং পরবর্তীতে ঠিকানা পূরণ করতে হবে।
![]() |
| ব্যক্তিগত তথ্য, অন্যান্য তথ্য ও ঠিকানা পুরন করুন |
ব্যক্তিগত তথ্যের মধ্যে আপনার নাম বাংলাতে লিখতে হবে। তারপর জন্ম নিবন্ধন নম্বর, জন্মস্থান ইত্যাদি সিলেক্ট করে দিবেন, এরপর আপনার পিতার নাম বাংলা ইংরেজি এবং জাতীয় পরিচয় পত্র নম্বর ফিলাপ করবেন।
তারপর আপনার মাথার তথ্য নাম বাংলাতে ইংরেজিতে এবং জাতীয় পরিচয় পত্রের নম্বর ইনপুট দিবেন।
বৈবাহিক অবস্থা সিলেট করবেন।
বিবাহিত হলে আপনার স্বামী আপনার স্ত্রীর নাম দিয়ে দিবেন অবশ্যই তার ভোটার আইডি কার্ড অথবা জন্ম নিবন্ধন অনুযায়ী।
এরপর অন্যান্য তথ্য এর অপশনটি ফিলাপ করবেন।
আপনার সর্বশেষ শিক্ষাগত যোগ্যতা সিলেক্ট করবেন
তবে অবশ্যই মনে রাখবেন যে আপনি যেই শিক্ষাগত যোগ্যতা সিলেক্ট করবেন সেটার বিপরীতে আপনাকে একটা মার্কশিট/সার্টিফিকেট অথবা এডমিট কার্ড এর ফটোকপি মানে যে কোন একটা ডকুমেন্ট আপনাকে অফিসে জমা দিতে হবে।
তারপর আপনার পেশা সিলেট করে দিবেন।
এরপর অসমর্থতা একটি অপশন আসবে এখানে যদি আপনার কোন বড় ধরনের সমস্যা থাকে তাহলে সেটা অবশ্যই সিলেক্ট করে দিবেন।
এরপর সনাক্তকরণ চিহ্ন তিন নম্বর ড্রাইভিং লাইসেন্স নম্বর পাসপোর্ট নম্বর যদি থাকে তাহলে দিয়ে দিবেন না থাকলে দিতে হবে না।
পরবর্তী বাটনে ক্লিক করবেন তাহলে আপনাকে পরবর্তী অপশনে নিয়ে যাবে।
এরপর আপনার ঠিকানা অপশনটি ফিলাপ করতে হবে।
এখানে আপনি কোন দেশে অবস্থান করতেছেন সেটা সিলেট করে দিবেন, তারপর আপনার ভোটার ঠিকানা স্থায়ী নাকি বর্তমান সেটা সিলেক্ট করে দিবেন।
এরপর ধাপে ধাপে আপনার বর্তমান ঠিকানা এবং স্থায়ী ঠিকানা ঘর গুলোর মনোযোগ দিয়ে পূরণ করবেন।
এখানে ধাপে ধাপে বিভাগ জেলা উপজেলা, ডাকঘর হোল্ডিং নম্বর ইত্যাদি অপশন গুলো পূরণ করবেন।
সবগুলো পূরণ করা হয়ে গেলে আবার একবার রিভিশন দিয়ে নিবেন।
মনে রাখবেন এই অনলাইন আবেদন ফরমে আপনি যেই তথ্যগুলো ইনপুট দিবেন সেগুলোই আপনার এনআইডি কার্ড বা জাতীয় পরিচয় পত্রে আসবে।
তারপর পরবর্তী অপশন এ ক্লিক করবেন আবার পরবর্তী অপশনে ক্লিক করবেন তারপর ফাইনাল সাবমিট দিয়ে দিবেন।
![]() |
| পরবর্তী ক্লিক করুন |
সাবমিট দেওয়ার পর আর এডিট করার সুযোগ থাকবে না।
![]() |
| ফাইনাল সাবমিট দিন |
এবার ডাউনলোড পাঠানো ক্লিক করে আপনার ফোনটি ডাউনলোড করে নিবেন
![]() |
| আপনার আবেদনপত্র টি ডাউনলোড করে নিন |
এবার এখানে আপনি আপনার সকল তথ্য দেখতে পারবেন।
এবার ফরমে কিছু অংশ বাকি থাকবে সেগুলো চেয়ারম্যান ওয়ার্ড কাউন্সিলর মেম্বার যে কোন একজনের নাম ও এনআইডি নাম্বার এবং স্বাক্ষর দিয়ে পূরণ করে দিবেন এবং আবেদনকারী স্বাক্ষর। এবং পরিচিত একজন ভোটার এনআইডি নাম্বার এবং স্বাক্ষর দিয়ে বাকি অংশ ফিলাপ করে নেবেন।
![]() |
| ২য় পৃষ্ঠায় এগুলো কলম দিয়ে পূরন করবেন |
তারপর প্রয়োজনীয় সকল কাগজপত্র সহ উপজেলা নির্বাচন কমিশন অফিসে যোগাযোগ করে সেখানে কাগজপত্র জমা দিবেন।
পরবর্তীতে আপনার নাম্বারে মেসেজ আসবে অফিসে গিয়ে আঙ্গুলের ছাপ আপনার ছবি স্বাক্ষর এবং চোখের স্কিন করবে। এরপর আপনাকে একটি স্লিপ দেয়া হবে দিয়ে আপনি আপনার ভোটার আইডি কার্ড অনলাইন থেকে ডাউনলোড করে নিতে পারবেন।
নতুন ভোটার হওয়ার জন্য যে কাগজপত্র গুলি প্রয়োজন হবে।
- অনলাইন জন্ম নিবন্ধন বাধ্যতামূলক
- শিক্ষাগত যোগ্যতা যদি প্রয়োজন হয়
- পিতা মাতার জাতীয় পরিচয় পত্রের কপি
- বৈবাহিক অবস্থা বিবাহিত হলে সেটার সনদ
- চেয়ারম্যান এর প্রত্যয়ন পত্রের ফটোকপি
- বিদ্যুৎ বিলের ফটোকপি যদি প্রয়োজন হয়।
- অঙ্গীকারনামা এর আগে ভোটার রেজিস্ট্রেশন করেননি এমন একটা প্রতিশ্রুতি পত্র।
- ড্রাইভিং লাইসেন্স অথবা পাসপোর্ট অপশনাল।
ভোটার নিবন্ধন সম্পর্কে কিছু প্রশ্ন ও তার উত্তর।
ভোটার টানিবন্ধন করতে কেমন টাকা লাগে
মূলত ভোটার রেজিস্ট্রেশন করতে কোন টাকার প্রয়োজন হয় না। তবে এখানে যদি অন্য কেউ আপনাকে হেল্প করে বা আপনি যদি কোন দোকান থেকে ফরম ফিলাপ করেন সেই ক্ষেত্রে আলাদা ব্যাপার সেটা তার চার্জ যাকে দিয়ে কাজ করাবেন।
ভোটার আইডি কার্ড কিভাবে চেক করব?
ভোটার আইডি কার্ড চেক করার জন্য অনেক রাস্তা রয়েছে তার মধ্যে অন্যতম একটি রাস্তা হল ভূমি মন্ত্রণালয়ের সাইট। আপনার ইনফরমেশন দিয়ে ভোটার আইডি কার্ডের তথ্য দেখতে পারবেন।
আমার ভোটার আইডি কার্ড তৈরি হয়েছে কিনা কিভাবে চেক করব?
ভোটার আইডি কার্ড তৈরি হয়ে গেলে আপনার দেওয়া ফোন নম্বরে একটি মেসেজ আসবে সেখানে আপনার এনআইডি নাম্বার দিয়ে আপনার নাম সহ একটি মেসেজ লেখা থাকলে সেখান থেকে আপনি নির্বাচন কমিশনের ওয়েবসাইট থেকে আপনার এনআইডি কার্ড উত্তোলন করতে পারবেন।










