জাতীয় পরিচয় পত্র বা ভোটার আইডি কার্ড সংশোধন করতে কতদিন সময় নেয় এ সম্পর্কে আমরা অনেকেই জানিনা। জাতীয় পরিচয় পত্র বা ভোটার আইডি কার্ডের তথ্য ভুল আসলে পরবর্তী সময়ে এগুলো সংশোধন করে নিতে হয় কেননা আপনি যদি সংশোধন না করেন তাহলে পরবর্তীতে ভোটার আইডি কার্ড দিয়ে কোন কাজ করতে গেলে আপনি বিভিন্ন সমস্যার সম্মুখীন হবেন।
যেমন ধরুন আপনার পিতার নাম আপনার আইডি কার্ডের সাথে মিলে না আপনার মাথার নাম মিলেনা ইত্যাদি ইত্যাদি অনেক ভুল অথবা আপনার সার্টিফিকেটের সঙ্গে জন্ম তারিখ মিলেনা সার্টিফিকেটের বাবার নামে একটা বাবার আইডি কার্ড একটা আমার আইডি কার্ডে আরেকটা ইত্যাদি ইত্যাদি অনেক ধরনের ভুল রয়েছে যেগুলো হয়ে যায় সাধারণত অসাবধানতা বসত।
তাই ভোটার আইডি কার্ড সংশোধন হতে কত দিন বা কত মাস সময় প্রয়োজন এই সম্পর্কে আজকে বিস্তারিত আলোচনা করব।
জাতীয় পরিচয় পত্র বা ভোটার আইডি কার্ড সংশোধন হতে কতদিন সময় লাগে
জাতীয় পরিচয়পত্র বা ভোটার আইডি কার্ড সংশোধনের মধ্যে বিভিন্ন ধরনের সংশোধন রয়েছে যেমন শুধু নাম সংশোধন অথবা নাম পিতার নাম মাতার নাম উভয়টাই সংশোধন অথবা জন্ম তারিখ সংশোধন অথবা ঠিকানা পরিবর্তন ইত্যাদি বিভিন্ন ধরনের পরিবর্তন সংশোধন করতে হয় যেগুলোকে মূলত চারটি ভাগে ভাগ করা যায় ওই ক্যাটাগরি অনুযায়ী সময় লাগে সংশোধন হতে।
ক্যাটাগরি বা বিভক্তি অনুযায়ী চার ধরনের সংশোধনের সময় প্রয়োজন সেগুলো ক খ গ ঘ আকারে ভাগ করা হয়।
- ”ক” ক্যাটাগরি সংশোধন করতে ৭ দিন সময় প্রয়োজন।
- ”খ” ক্যাটাগরি সংশোধন করতে ১৫ দিন সময় প্রয়োজন।
- ”গ” ক্যাটাগরি সংশোধন করতে ৩০ দিন সময় প্রয়োজন।
- ”ঘ” ক্যাটাগরি সংশোধন করতে ৪৫ দিন সময় প্রয়োজন।
জাতীয় পরিচয় পত্র বাম ভোটার আইডি কার্ড সংশোধনের আবেদন করার পর সেটি প্রথমে ঢাকা নির্বাচন কমিশনের প্রধান বিভাগে দায়িত্বরত অফিসারদের কাছে চলে যায় এবং সেখান থেকে ওই আবেদনটি ক্যাটাগরি অনুযায়ী আলাদা আলাদা উপজেলা নির্বাচন কমিশনের কাছে পাঠিয়ে দেয়।
পরবর্তীতে উপজেলা অফিস থেকে আপনার আবেদনটি দেখেশুনে যাচাই বাছাই করে অনুমোদন করে অথবা বাতিল করে যদি আপনার তথ্য দেওয়া তথ্য ও ডকুমেন্ট সমূহ জাল থাকে বা সঠিক না থেকে বা গরমে থাকে উল্টাপাল্টা থাকলে সে ক্ষেত্রে আপনার আবেদনটি বাতিল হওয়ার সম্ভাবনা থাকে।
কিভাবে তাড়াতাড়ি ভোটার আইডি কার্ড সংশোধন করবেন।
তাড়াতাড়ি ভোটার আইডি কার্ড বা জাতীয় পরিচয় পত্র সংশোধন করার জন্য আপনার যে ভুলগুলো হয়েছে সেই ভুলের বিপরীতে গ্রহণযোগ্য ডিজিটাল তথ্য ও ডকুমেন্ট সংযুক্ত করে দিবেন এবং ডকুমেন্টগুলো অবশ্যই স্পষ্ট ভাবে স্ক্যান করে নিবেন এক্ষেত্রে ক্যাটাগরি অনুযায়ী সংশোধন হতে সাত থেকে ৪৫ দিনের মধ্যে হয়তো অনুমোদন হয়ে যাবে অথবা বাতিল করা হবে।
আপনি যেই তথ্যগুলো সংশোধন করবেন সেটার উপর ভিত্তি করে ক্যাটাগরি গুলো ভাগ করা হয় যেমন ছোটখাট যদি তথ্য ভুল থাকে সেক্ষেত্রে ৭ থেকে ১৫ দিন সময় নেয় আর যদি বড় ধরনের কোন ভুল থাকে বা বেশি পরিমাণে ভুল থাকে সেক্ষেত্রে একটু সময় বেশি নেয় আবার আপনি যদি সঠিক তথ্য প্রমাণ সহ সংশোধনের আবেদনটি করেন তাহলে বাতিল হওয়ার সম্ভাবনা খুবই কম থাকে।
ভোটার আইডি কার্ড সংশোধনের ক্যাটাগরি সমূহ
- নামের কিছু অংশ পরিবর্তন
- নামের বানান সংশোধন
- বাংলা ও ইংরেজী নাম সংশোধন
- জেন্ডার পরিবর্তন
- বিবাহিত ও অবিবাহিত তথ্য সংশোধন
- ৩ বছর অবধি জন্ম তারিখ সংশোধন
- রক্তের গ্রুপ
- ঠিকানা পরিবর্তন ইত্যাদি
- ৫ বছর অবধী জন্ম তারিখ সংশোধন
- স্বাক্ষর, ছবি, ফিঙ্গারপ্রিন্ট, চোখের আইরিশ
- র্ধম পরিবর্তন
- শিক্ষাগত যোগ্যতা
- স্বামী স্ত্রীর নাম যোগ করা ও বাদ দেওয়া
- অনান্য তথ্য যেমন, প্রতিবন্ধকা ও অসর্মতা ইত্যাদি
- সার্টিফিকেট অনুযায়ী সম্পূর্ন নাম পরিবর্তন
- ৫ বৎসরের বেশি জন্ম তারিখ সংশোধন, (নির্বাচন প্রার্থির সীমা, মুক্তিযোদ্ধা ও ভোটার যোগ্যতা, চাকুরীর বয়স সীমা, বয়স্কভাড়া পাওয়ার জন্য বয়স সীমা ব্যাতিত)
- সার্টিফিকেট ব্যাতিত অন্যান্য তথ্যের প্রমান ও ভিত্তিতে সম্পুর্ণ নাম পরিবর্তন
- জন্ম তারিখ পরিবর্তন সকল ক্ষেত্রে
উপরের লিস্ট টি লক্ষ্য করলে আপনারা দেখতে পারবেন এখানে চারটি ক্যাটাগরির ভাগ করা হয়েছে এই ক্যাটাগরি অনুযায়ী আপনার সংশোধনের সময়টা মূলত নির্ধারণ হয়।
অনলাইনে ভোটার আইডি কার্ড সংশোধন করার নিয়ম
- প্রথমে জাতীয় পরিচয় পত্রের অফিসিয়াল ওয়েবসাইটে প্রবেশ করুন।
- ইতিপূর্বে ইউজারনেম ও পাসওয়ার্ড সেট করা থাকলে সেটা দিয়ে লগইন করুন অথবা নতুন করে রেজিষ্টার করুন। রেজিষ্টার করার নিয়ম দেখুন
- রেজিষ্টার করার জন্য ভোটার আইডি নং ও জন্ম তারিখ দিন।
- এর পর স্থায়ী ও বর্তমান ঠিকানা দিন।
- এরপর আপনার মোবাইল নম্বরে একটি যচাই করন কোড যাবে, সেটি দিন,
- এবং পরবর্তী ধাপে কিউআড কোড টি স্ক্যান করে আপনার ফেস স্ক্যান করুন।
- কিউআর কোড অবশ্যই NID Wallet অ্যাপ দিয়ে স্ক্যান করতে হবে।
- তার পর আপনি আপনার প্রফাইলে লগইন হয়ে যাবেন।
- এর পর বিস্তারিত প্রফাইলে গিয়ে দেখবেন এখানে এডিট নামে একটি অপশন রয়েছে।
- এডিট বাটনে ক্লিক করে যা যা সংশোধন করতে চান সেগুলো লিখুন এবং পররর্তী ধাপে ক্লিক করুন,
- তবে সংশোধন করার পূর্বে অবশ্যই নির্ধারিত সংশোধন ফি পরিশোধ করতে হবে।
- কি পরীবর্তন করলে কত টাকা ফি দিতে হবে হিসাব করুন এখানে ক্লিক করে
- তারপর পরবর্তী অপশনে ক্লিক করে আপনার সংশোধিত তথ্যের বিপরিতে ডকুমেন্ট আপলোড করুন। এবং পরবর্তীতে সবকিছু ঠিক থাকলে সাবমিট করুন।
অনলাইনে বিকাশের মাধ্যমে জাতীয় পরিচয়পত্রের সংশোধন ফি প্রদান করতে পারবেন
