অনলাইনে জাতীয় পরিচয় পত্র সংশোধন
ইতিপূর্বে যারা জাতীয় পরিচয় পত্র বা ভোটার আইডি কার্ড করেছেন, তাদের অনের ভোটার আইডি কার্ড এ বিভিন্ন ছোট খাটো ভূল সহ বড় ধরনের ভূল হয়ে গেছে। আপনার অথবা আপনার পরিচিত কারো জাতীয় পরিচয় পত্রে যদি ভূল থাকে তাহলে তাড়াতাড়ি সংশোধন করে নিবেন। নয়তো আপনার নিত্য প্রয়োজনীয় কাজের সময় এই ভূলের কারনে বিভিন্ন সমস্যার সম্মুখিন হতে পারেন। আমি আবার বলছি এই ভূলের জন্য বড় বিপদে পরতে পারেন। তাই যদি ভূল হয়ে যায় অবশ্যই সংশোধন করে নিবেন।
জাতীয় পরিচয়পত্র সংশোধন করতে কি কি লাগে
মূলত জাতীয় পরিচয় পত্রে বিভিন্ন ধরনের ভূল হয়। সেই ভূলের ধরনের বিপরিতে আপনার প্রয়োজনীয় ডকুমেন্ট প্রয়োজন হতে পারে, যেমন, জন্ম নিবন্ধন, আইডি কার্ড, সার্টিফিকেট, নিকাহনামা, ড্রাইভিং লাইসেন্স, এডমিট কার্ড, পাসপোর্ট, সহ ইত্যাদি ইত্যাদি ডকুমেন্ট প্রয়োজন হবে তবে সেটা ভোটার আইডি কার্ড এ কোন ধরনের ভূল হয়েছে সেটার উপর নির্ভর করে।
আবার যদি আপনি এক এলাকায় বসবাস করতেছেন, এবং সেই এলাকায় ভোটার রেজিস্ট্রেশন করে ফেলেছেন, এখন যদি আপনি স্থায়ী ঠিকানায় চলে আসেন, তাহলে আপনার ঠিকানা স্থানান্তর করতে হবে, সেই ক্ষেত্রে আবার নির্বাচন অফিস থেকে স্থানান্তর এর ফরম পূরণ করে আপনাকে ঠিকানা সংশোধন করতে হবে।
জাতীয় পরিচয়পত্র সংশোধন এর ফি কত?
এখানে প্রত্যেকটা কাজ নির্ভর করছে আপনি কতটুকু সংশোধন করবে এটার উপর, তেমন ফি কত হবে এটাও নির্ভর করবে আপনার ভূল কতটুকু হয়েছে সেটার উপর। এই লিংকে ক্লিক করে ফি হিসাব করে নিন। অথবা নিচে একটি লিস্ট দেখে ফি হিসাব করে নিতে পারেন।
জাতীয় পরিচয় পত্র তিন ধরনে সংশোধন হয়।
- এনআইডি তথ্য সংশোধনঃ ৩৪৫ টাকা
- অন্যান্য তথ্য সংশোধনঃ ১১৫ টাকা
- উভয় তথ্য সংশোধনঃ ৪৬০ টাকা
জাতীয় পরিচয়পত্র সংশোধন করতে কি কি প্রয়োজন?
এই ব্যপারটা অনেকেই বুঝে না, কি কি লাগে এটা কেমন কথা? আপনি কি কি সংশোধন করবেন সেটার উপর নির্ভর করছে কি কি কগজপত্র লাগবে। পৃথিবীতে কিন্তু ডকুমেন্ট এর শেষ নাই। আর সব ডকুমেন্ট কিন্তু ভেলিডিটি/ সঠিকতা যাচাই করা যায় না। নিচে আমি একটা লিস্ট দিলাম, এই লিস্ট এ যেই ডকুমেন্ট গুলোর কথা উল্লেখ আছে এগুলো এন.আই.ডি সংশোধনের ক্ষেত্রে ভেরিফাইড ডকুমেন্ট বলে বিবেচনা করা হবে।
- Admit card
- Affidavit
- Affidavit 2
- Application
- Birth certificate
- BS NID
- Data entry proof copy
- Death certificate
- Divorce letter
- Divorce letter 2
- Driving license
- Form 2
- F m nid
- GD
- HSC
- Investigation report
- Land document
- Land document 2
- Main application
- Marriage certificate
- Medical report
- NID
- Others
- Passport
- Passport 2
- Pay slip 1
- Pay slip 2
- Pay slip 3
- Pay slip 4
- Provisional certificate
- Service 1
- Service 2
- special info form
- Special info form 2
- Spouse nid
- Ssc
- S d nid
- Trade license
- Utility bill
- Voter form
- Voter form page one
- Voter form page two
উপরের যেই লিস্ট দেখতেছেন এগুলো সরকারি ভাবে যাচাই বাছাই করে তৈরি করা হয়েছে।
উদাহারন হিসেবে দেখুন, এখানে কিন্তু দোকনের ক্যাশ মেমো নামে কোনো ডকুমেন্ট নাই। যদিও ক্যাশ মোমেতে কিন্তু আপনার নাম থাকে। এবার বলুন কেন নাই। কারন এটা কোনো ভেরিফাইড ডকুমেন্ট হতে পারে না। কারন দোকানদারকে আপনি যেই নাম বলবেন ওই নামেই ক্যাশ মেমো বানিয়ে দিবে যেটা সরকারের কাছে কখনই গ্রহনযোগ্য হবে না।
কিন্তু উপরের লিস্ট এর প্রায় সবগুলো সরকারি ডকুমেন্ট। এগুলো ছাড়া যদি কোনো ভেলিড ডকুমেন্ট আপলোড দিতে হয় তাহলে আপনারে Others বা অন্যান্য ডকুমেন্ট আপলোড দেওয়ার সুযোগ রয়েছে, যেমন চেয়ারম্যান কর্তৃক নাগরিক সনদ, চারিত্রিক সনদ, প্রত্যয়নপত্র ইত্যাদি এর মানে এটা নয় যে আপনি একটা দোকান থেকে কিছু কিনলেন আর সেই ক্যাশ মেমো আপলোড করে দিলেন।
NID সংশোধন করলে কি কি লাগে?
জাতীয় পরিচয় পত্রের ভূল বলতে আপনার সকল কাগজপত্রে ঠিক আছে কিন্তু যখন আপনি জাতীয় পরিচয়পত্র হাতে পান তখন কোনো অসাবধানতা বশত আপনার নামে ভূল চলে আসলো।
এবার আপনার নাম ঠিক করতে হবে, কিন্তু কি কি কাগজ আপলোড ও সাবমিট করবেন?
এবার তাহলে দেখুন, আপনার কি কি আছে খুজে বের করুন, উপরের লিস্ট ফলো করে দেখুন যেখানে যেখানে আপনার সঠিক নামটি আছে ওই কগজগুলো একসাথে করুন,
উদাহরনস্বরুপ আপনার কাছে আপনার জন্মনিবন্ধন, এস.এস.সি, এইচ.এস.সি. অনার্স, মাস্টার্স, নিকাহ নামা, ইত্যাদি কাগজ আছে, এই ক্ষেত্রে আপনি এই কাগজগুলো স্ক্যান করে আপলোড দিয়ে আবেদন করলে আপনার নাম সংশোধন হয়ে যাবে, সবসময় চেষ্টা করবেন যে, যতবেশি পারেন কাগজ আপলোড করবেন, কারন যতবেশি ডকুমেন্ট সাবমিট দিবেন তত আবেননের গ্রহনযোগ্যতা বৃদ্ধি পাবে কেননা নির্বাচন কমিশন দেখবে যে,
আপনার সব কাগজ ঠিক আছে কিন্তু জাতীয়পরিচয় পত্রে ভূল নাম বা আংশিক ভূল চলে আসছে তখন তারা আবেদনটি গ্রহন করবে, কিন্তু আপনার কাছে যদি কোনো ডকুমেন্ট ই না থাকে তাহলে তো আপনার আবেদন কখনই গ্রহন করবে না। কারন এই জাতীয় পরিচয় পত্রই আপনার একমাত্র স্বম্বল তাই এটা ভূল থাকলে এখন এটাই সঠিক। তাই সাধারনত অন্যান্য কাগজপত্রের সাথে মিল রাখার জন্য সংশোধন করা হয়। আমি কতটুকু বুঝাতে পারছি জানি না।
নিচের অংশটুকু লক্ষ করুন
ধরুন আপনার জাতীয়পরিচয় পত্রে পিতার নাম ভূল হলো। আপনার পিতার আইডি কার্ড এক নাম আর আপনার আইডি কার্ড এ আরেক নাম। এখন আপনার পিতার আইডি কার্ড, এবং আপনার যেই যেই ডকুমেন্টে আপনার পিতার নাম রয়েছে সেগুলো সব আপলোড দিয়ে ডকুমন্টে হিসেবে সাবমিট দিতে হবে। তখন তারা দেখবে যে, নামের গরমিল রয়েছে তখন সমাধান দিবে।
ডকুমেন্ট আপনি ১৫ টা আপলোড দিতে পারবেন, তাই চেষ্টা করবেন বেশি বেশি ডকুমেন্ট সাবমিট দেওয়ার জন্য। কিন্তু এর মানে এই না যে, আপনি কম্পিউটার দিয়ে এডিট করে বানিয়ে বানিয়ে ডকুমেন্ট সাবমিট দিবেন। এতে আপনার বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপ ও নেওয়া হতে পারে। তাই সবসময় সঠিক কাগজপত্র সাবমিট করবেন।
এবার সংক্ষেপে কয়েক ধরনে ভূল এর ব্যাপার এবং সেগুলোর বিপরিতে কি কি লাগবে সেগুলো এক নজর দেখে নিন।
লিস্ট থেকে যে সবগুলো লাগবে এমন কিছু না আপনার যেগুলো যেগুলো আছে সেগুলো সাবমিট দিবেন।
- জন্ম নিবন্ধন
- ড্রাইভিং লাইসেন্স
- নিকাহ নামা ও বৈবাহিক সনদ
- শিক্ষাগত যোগ্যতার সার্টিফিকেট বা মার্কশিট বা এডমিট কার্ড
- চাকুরীর জয়েনিং লেটার বা প্রত্যয়ন পত্র ইত্যাদি
- পিতা অথবা মাতার আইডি কার্ড ও জন্ম নিবন্ধন
- জন্ম নিবন্ধন
- ড্রাইভিং লাইসেন্স
- নিকাহ নামা ও বৈবাহিক সনদ
- শিক্ষাগত যোগ্যতার সার্টিফিকেট বা মার্কশিট বা এডমিট কার্ড ইত্যাদি
- ডিজিটাল জন্ম নিবন্ধন
- এফিডেভিট
- ড্রাইভিং লাইসেন্স
- নিকাহ নামা ও বৈবাহিক সনদ
- শিক্ষাগত যোগ্যতার সার্টিফিকেট বা মার্কশিট বা এডমিট কার্ড ইত্যাদি
- স্বামী অথবা স্ত্রীর জাতীয় পরিচয় পত্রের কপি
- নিকাহ নামা
- বৈবাহিক সনদপত্র
- তালাক নামা অথবা মৃত্যুবরণ করলে মৃত্যু সনদ
জাতীয় পরিচয় পত্রের ঠিকানা সংশোধন করতে কি কি লাগে?
- ডিজিটাল জন্ম নিবন্ধন সনদ
- নাগরিক সনদপত্র
- বাসা/বাড়ির করের রশিদ অথবা বিদ্যুৎ বিল এর কপি ইত্যাদি
