কিভাবে অনলাইনে মৃত্যু নিবন্ধন সনদ এর আবেদন করবেন ও সনদ হাতে পাবেন। মানুষ মৃত্যু বরণ করার পর তাদের ওয়ারিশদের/সন্তান ছেলে মেয়েদের মৃত্যু সনদ প্রয়োজন হয়। একজন দেশের নাগরিকের জন্ম ও মৃত্যুর সনদ থাকা বাধ্যতামূলক।
মৃত্যু নিবন্ধন সনদ হচ্ছে জন্ম নিবন্ধন সনদের মতই গুরুত্বপূর্ন ডকুমেন্ট। তাই পরিবাবের কারো মৃত্যু হলে অনলাইনে মৃত্যু নিবন্ধন আবেদন করে উপজেলা ইউনিয়ন পরিষদ অথবা পৌরসভা হতে মৃত্যু নিবন্ধন সনদ গ্রহন করা। আজকের আলোচনার বিষয় কিভাবে অনলাইনে মৃত্যু নিবন্ধন সনদ এর আবেদন করবেন।
মৃত্যু নিবন্ধন সনদ কি?
জন্ম ও মৃত্যু নিবন্ধন আইন অনুযায়ী ৩ জুলাই ২০০৬ সাল হতে প্রত্যেক মৃতুবরণ কারীদের মৃত্যু সনদ করতে হবে। মৃত্যু নিবন্ধন সনদ হলো এমন একটি সনদ বা সার্টিফিকেট যা একজন ব্যক্তিকে মৃত হিসেবে সাব্যস্ত করে।
মৃত্যু নিবন্ধন সনদ কি কাজে লাগে?
বিভিন্ন কাজে মৃত্যু নিবন্ধন সনদ প্রয়োজন হয়। বিশেষ করে পিতা-মাতার ওয়ারিশ প্রমানের ক্ষেত্রে বা কোন সম্পত্তির মালিকানা পেতে তাদের মৃত্যু সনদ প্রয়োজন হয় । চাকরি ক্ষেতে পেনশন এর টাকা পাওয়ার জন্য মৃত্যু সনদ এর প্রয়োজন হয়। ব্যাংক একাউন্ট ধারী মৃত্যু বরণ করলে সেটার নমিনি টাকা উত্তোলনের ক্ষেত্রে মৃত্যু নিবন্ধন সনদ এর প্রয়োজন হয়।
মৃত্যু নিবন্ধন সনদ করতে কি কি লাগে?
- মৃত ব্যাক্তির অনলাইন বা ডিজিটাল জন্ম নিবন্ধন সনদ
- মৃত্যুর তারিখ ও স্থান সংক্রান্ত প্রত্যয়ন ক্ষেত্র বিশেষ এ হাসপাতালের প্রেসক্রিপশন
- মৃত্যু স্থানের ঠিকানা ও মৃত্যুকালীন বসবাসের ঠিকানা
- স্থায়ী ও বর্তমান ঠিকানা
- আবেদনকারীর ভোটার আইডি বা জন্ম নিবন্ধন নম্বর
- তথ্য প্রদানকারীর (আবেদনকারী) জন্ম নিবন্ধন ও ভোটার আইডি নম্বর
মৃত্যুর তারিখ সংক্রান্ত প্রমান পত্র
মৃত্যুর প্রমান এর ক্ষেত্রে হাসপাতাল, ডাক্তার বা স্বাস্থ্যকর্মীর প্রত্যয়ন পত্র। এছাড়া নিম্মোক্ত যে কোনো একটি কাগজের প্রমান হিসেবে মৃত্যুর প্রমান দাখিল করা যাবে।
- ইমাম সাহেবের প্রত্যয়ন পত্র যিনি মৃত ব্যক্তির জানাযা পড়িয়েছেন। অন্যান্য ধর্ম ক্ষেত্রে পুরোহিত বা সৎকার কারী।
- ময়না তদন্ত প্রতিবেদন এর কপি।
- কবরস্থান/সমাধী/সৎকার স্থলের কর্মরত কর্মীর সৎকার রসিদের কপি।
- ইউনিয়ন পরিষদ/ পৌরসভা/ সিটি কর্পোরেশন/ ক্যান্টনমেন্ট বোর্ড অফিসার কর্তৃক মত্যুর প্রত্যয়ন পত্র।
![]() |
| মৃত্যু নিবন্ধন অনলাইন আবেদন: Death Certificate Online Application |
মৃত্যু নিবন্ধন অনলাইন আবেদনের নিয়ম
অনলাইনে মৃত্যু নিবন্ধন আবেদন করার জন্য ভিজিট করুন: https://bdris.gov.bd/dr/application
![]() |
| মৃত্যু নিবন্ধন অনলাইন আবেদন |
এখানে আপনার জন্ম নিবন্ধন সনদে যেই নাম্বার টি রয়েছে সেটি লিখুন এবং জন্ম তারিখ সিলেক্ট করুন। তারপর অনুসন্ধান বাটনে ক্লিক করলে আপনার বিস্তারিত তথ্য যেমন- নাম পিতার নাম, মাতার ইত্যাদি তথ্য দেখতে পারবেন। আপনার তথ্য ঠিক থাকলে নির্বাচন করুন বাটনে ক্লিক করুন। আপনার যদি জন্ম নিবন্ধন না থাকে তাহলে আগে জন্ম নিবন্ধন করে নিতে হবে।
নির্বাচন বাটনে ক্লিক করলে একটা কনফারমেশন চাওয়া হবে সেখানে শুধু কনফার্ম ক্লিক করুন। তারপর পরের ধাপে নিয়ে যাওয়া হবে।
নিবন্ধন কার্যালয়ের ঠিকানা:
![]() |
| মৃত্যু নিবন্ধন অনলাইন আবেদন |
এখানে আপনার দেশ, বিভাগ, জেলা, উপজেলা সিলেক্ট করুন। তারপর আপনার পৌরসভা অথবা ইউনিয়ন সিলেক্ট করুন। তারপর এখানে আপনার অফিসের নাম দেখাবে সবকিছু ঠিক থাকলে পরবর্তী ধাপে যান।
মৃত ব্যক্তির বিবরণ ও স্বামী স্ত্রীর তথ্য:
![]() |
| মৃত্যু নিবন্ধন অনলাইন আবেদন |
পরবর্তী ধাপে আপনাকে মৃত্যুর তারিখ ও মৃত্যুর কারণ সিলেক্ট করতে হবে। যেই তারিখে মৃত্যুবরণ করেছে অবশ্যই সেই তারিখ সিলেক্ট করুন এবং মৃত্যুর কারণ সিলেক্ট করুন। নিচের যেই কারনে মৃত্যু হয়েছে সেটি নির্বাচন করুন।
- উচ্চ জায়গা হতে পড়ে গিয়ে মৃত্যু
- কার্ডিওজেনিক শক
- ব্রট ডেড
- আনএটেনডেন্ট ডেথ
- এ্যাসপিরেশন নিউমোনিয়া
- সড়ক দূর্ঘটনা জনিত কারন
- এআরডিএস
- এমআই
- সেপটিসেমিয়া
- সিওপিডি
- ডায়াবেটিস
- উচ্চ রক্তচাপ
- হৃদক্রিয়া বন্ধ হয়ে
- আত্মহত্যা
- সিকেডি – কিডনি জনিত রোগ
- হেমারেজিক ডেঙ্গু
- পানিতে ডুবে
- ইলেক্টোলাইট ইমব্যালেন্স
- হত্যা
- কোভিড ১৯
- প্রাকৃতিক দুর্যোগ
- সর্পদংশন
- আগুনে পুড়ে মৃত্যু
- শারীরিক অসুস্থতা
- বৈদ্যুতিক শক
- মাতৃমৃত্যু
- পোস্ট সিএবিজি কার্ডিয়াক আরসিএসটি
- উদরাময়
- স্বাভাবিক অবস্থায় মৃত্যুবরন
- ক্যান্সারে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুবরণ
- ট্রেন দুর্ঘটনা
- প্যারালাইসিস
- স্ট্রোক
এরপর এখানে স্বামী স্ত্রীর তথ্য পূরণ করুন (এটা অপশনাল যদি থাকে তাহলে পূরণ করুন) এবং পরবর্তী ধাপে অগ্রসর হন।
মৃত্যুর স্থানের বিবরণ:
![]() |
| মৃত্যু নিবন্ধন অনলাইন আবেদন: মৃত্যুর স্থানের বিবরণ |
এখানে মৃত্যুর স্থানের বিবরণ এবং মৃত্যুর সময় বসবাসের ঠিকানা সঠিকভাবে লিখুন ও সিলেক্ট করুন। পর্যায়ক্রমে বিভাগ, জেলা, উপজেলা, ডাকঘর গ্রাম, ও বাসা বাড়ির ঠিকানা লিখুন। এবং পরবর্তী বাটনে ক্লিক করুন। এখানে মৃত্যুর স্থানের বিপরিতে ডকুমেন্ট এর প্রয়োজন হবে।
তথ্য প্রদান কারী/আবেদনকারীর ঘোষনা:
এখানে তথ্য প্রদানকারী/আবেদনকারী জন্ম নিবন্ধন নম্বর ও জাতীয় পরিচয় পত্র এবং মোবাইল নম্বর তারপর ঠিকানা ইত্যাদি পূরন করতে হবে। এবং আবেদনকারী ব্যক্তির সাথে কি সম্পর্ক রয়েছে সেটাও সিলেক্ট করতে হবে।
![]() |
| মৃত্যু নিবন্ধন অনলাইন আবেদন: তথ্য প্রদান কারী |
এরপর প্রয়োজনীয় কাগজপত্র আপলোড করতে হবে। যেমন- জন্ম নিবন্ধন সনদ, মৃত্যুর তারিখ ও স্থান সম্পর্কিত ডকুমেন্ট বসবাসের ঠিকানা ইত্যাদি।
![]() |
| মৃত্যু নিবন্ধন অনলাইন আবেদন |
আপনার কাছে যেই ডকুমেন্ট গুলো আছে সেগুলো আপলোড করুন। এবং পরবর্তী ধাপে যান এখানে আপনার সবকিছুর একটা প্রিভিও দেখাবে সবকিছু পুনরায় দেখে শুনে ঠিক ঠাক থাকলে আবেদন সাবমিট করুন।
আবেদন সম্পন্ন হওয়ার পর আপনাকে এমন একটি পেইজে নিয়ে আসা হবে।
![]() |
| আপনার আবেদন সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছে। আবেদন পত্রটি সংরক্ষণ করুন |
এরপর আবেদন পত্রটি প্রিন্ট করে যাবতীয় কাগজপত্র সহ সংশ্লিষ্ট কার্যালয় উপজেলা ইউনিয়ন পরিষদ বা পৌরসভায় নির্দিষ্ট তারিখের মধ্যে যোগাযোগ করুন।
মৃত্যু সনদ ফি কত?
মৃত্যুর ৪৫ দিনের মধ্যে আবেদনের ক্ষেত্রে ফি লাগবে না। তবে এর পর থেকে ৫ বছর পর্যন্ত ফি ২৫ টাকা করে এবং ৫ বছরের পর মৃত্যু নিবন্ধন করলে সেক্ষেত্রে ৫০ টাকা ফি প্রযোজ্য হবে।
মৃত্যু নিবন্ধন যাচাই/অনলাইন কপি
মৃত্যু নিবন্ধন অনলাইন আছে কিনা বা মৃত্যু নিবন্ধন এর অনলাইন কপি বের করতে চাইলে নিচের লিংকে প্রবেশ করুন: https://everify.bdris.gov.bd/UDRNVerification
এখানে প্রবেশ করে মৃত্যু নিবন্ধন এর নাম্বার ও জন্ম তারিখ সিলেক্ট করে ক্যাপচা পুরণ করুন। তারপর সার্চ বাটনে ক্লিক করলেই মৃত্যু নিবন্ধন সনদ এর সকল তথ্য পেয়ে যাবেন।
কিছু গুরুত্বপূর্ণ কথা
আপনি হয়তো কারো বা আপনার পরিবাবের কেউ মৃত্যুবরন করার কারনে তার নিবন্ধন সনদ করতে চাচ্ছেন। তাই উপরের দেওয়া নিয়ম অনুযায়ী আবেদন করে সংশ্লিষ্ট কার্যালেয়ে দাখিল করুন। এবং আপনার কাংখিত ব্যক্তির মৃত্যু নিবন্ধন সনদ গ্রহণ করে তা সংরক্ষন করে রাখুন। মৃত্যুর পর পরই মৃত্যু নিবন্ধন করে নেওয়ার চেষ্টা করুন। এক্ষেত্রে ফি প্রযোজ্য নয়।
যেহেতু মৃত্যু নিবন্ধন একটি গুরুত্বপূর্ণ ডকুমেন্ট তাই এটা নিয়ে অবেহলা না করে অতি তারাতারি নিবন্ধন করে নেওয়া উচিৎ। মৃত্যু নিবন্ধন করতে গেলে আগে ডিজিটাল জন্ম নিবন্ধন থাকতে হবে। তাই মৃত্যু নিবন্ধন করার আগে জন্ম নিবন্ধন করে নিন। তাই কেউ মারা গেলে তার মৃত্যু নিবন্ধন করে ফেলা উচিৎ ভবিষ্যতে এটা বিভিন্ন কাজে আসবে যেমন ওয়ারিশ প্রমানের ক্ষেত্রে, জমির মালিকানা ও বন্টন করার ক্ষেত্রে ইত্যাদি।
অন্যদিকে কারো যদি জন্ম নিবন্ধন না থাকে কিন্তু সে মারা গেছে সে ক্ষেত্রে সংশিষ্ট কার্যালয়ে চেয়ারম্যান/কাউন্সিলর কর্তৃক প্রত্যয়ন পত্র দিয়ে জন্ম নিবন্ধন বানিয়ে তারপর মৃত্যু নিবন্ধন করে নিতে হবে।



.png)



