ভিপিএন কি শুধু আনঅথরাইজড ও ই-লিগ্যাল ওয়েবসাইট ভিজিট করতে ব্যবহার হয়? ভিপিএন মানেই কি ই-লিগ্যাল, ভিপিএন নিয়ে আমাদের মনে অনেক ভূল ধারনা রয়েছে। ভিপিএন আজকে আমরা সহজ ভাষায় ব্যখ্যা করবো যে ভিপিএন কি, এটি কিভাবে কাজ করে? ভিপিএন সম্পর্কে আমাদের যেই ভূল ধারনা আছে সেগুলো ভেঙ্গে দেওয়ার চেষ্টা করবো
বিংশ শতাব্দীর শেষের দিকে এসে ভিপিএন এর আবির্ভাব হয়। বর্তমানে প্রায় ৫০০ কোটি মানুষ ইন্টারনেট ব্যবহার করে যার মধ্যে ১২০ কোটি মানুষ ভিপিএন ব্যবহার করে নিজেদের ইন্টারনেট ব্যবহারকে সুরক্ষিত রাখছেন। ইউজার ও ভিপিএন এর পরিসংখ্যান চমকে দেওয়ার মত।
মূলত নিরাপত্তার জন্য ভিপিএন ব্যবহার করা হলেও স্ট্রিমিং, গোপনিয়তা, গেম, ভ্রমন এবং নিষিদ্ধ সাইট ও কন্টেন্ট এ এক্সেস পেতেও ভিপিএন ব্যবহার করা হয়।
ভিপিএন (VPN) কি ?
VPN হচ্ছে Virtual Private Network। ভিপিএন বা ভার্চুয়াল প্রাইভেট নেওয়ার্ক। যেটার মাধ্যমে একটা টানেলের মধ্যে দিয়ে ডেটা কম্পিউটার বা অন্যান্য ডিভাইস থেকে আদান প্রদান করতে পারে। ইন্টারনেট এ নিজেকে সুরক্ষিত রাখতে ভিপিএন ব্যবহার করা হয়।
ভিপিএন কিভাবে কাজ করে?
ভিপিএন ছাড়া নরমালি যদি ইন্টারনেট ব্যবহার করেন সেই ক্ষেত্রে যদি বলি ধরুন- আপনি যখন আপনার ডিভাইস থেকে কোনো রিকুয়েস্ট দেন যেমন- আমি facebook.com এ ভিজিট করতে চাই বা কিছু একটা সার্চ করে দেখতে চাই ইত্যাদি। তো যখন আপনি কোথাও ভিজিট করতে চান তখন এই রিকোয়েস্ট টা ISP (wifi/cellular) সার্ভারে যায়। ISP বলতে Internet Service Provider মানে আপনি যেটা ব্যবহার করছেন হতে পারে সেটা ওয়াইফাই বা আপনার মোবাইল ডাটা। তারপর আপনার ISP সার্ভার ফেইসবুক, ইউটিউব ও বিভিন্ন ওয়েবসাইটকে রিকোয়েস্ট করে তারপর আপনি সেই সাইট ভিজিট করতে পারেন। এখানে মাঝখানে যেই ফাকা জায়গা রয়েছে সেখানে হ্যকাররা চাইলে আপনাদের ডেটা রিড করতে পারে বা হাতিয়ে নিতে পারে। ডেটার মধ্যে রয়েছে আপনার আইপি এড্রেস, আপনার অন্যান্য গুরুত্বপূর্ন তথ্য যেমন ইমেইল, ফোন নাম্বার ইত্যাদি। আইপি এড্রেস বলতে প্রত্যেকটা ডিভাইসের একটা ইউনিক এড্রেস আছে সেটা হলো আইপি এড্রেস।
এবার আসুন ভিপিএন ব্যবহার করে যদি আমরা কোনো ওয়েবসাইটে ভিজিট করতে চাই সেখানে প্রথমে আপনার রিকোয়েস্ট টি একটি ভিপিএন ক্লায়েন্ট সার্ভারে যায় তারপর সেই ডাটা এনক্রিপ্টেড হয়ে ISP সার্ভারে যায় সেখান থেকে আবার সেটি ভিপিএন সার্ভারে যায়। সেটা এনক্রিপ্টেড হয়ে মূল গন্তব্যে পৌছায় অর্থাৎ আমরা যেই সাইটে ভিজিট করতে চাচ্ছি সেখানে যায়।
এই প্রসেস এর মধ্যে আপনার পুরো ডেটা এনক্রিপ্টেড হয়ে যাবে। এবং আপনার আইপি এড্রেস টাও চেঞ্জ হয়ে যাবে ফলে হ্যাকার যদি আপনার ডেটা রিড করতেও পারে তবুও আপনার আসল ইনফরফেশন পাবে না। এইভাবে ভিপিএন ব্যবহার করলে আপনি ইন্টারনেট এ সেইফ এন্ড সিকিউর থাকতে পারবেন।
তাই ভিপিএন শুধু আইপি হাইড করার জন্য ব্যবহার হয়না বরং ইন্টারনেটে সুরক্ষিত থাকতেও ভিপিএন ব্যবহার করা হয়।
ভিপিএন সম্পর্কে আমাদের ভূল ধারনা
ভিপিএন কি শুধু অবৈধ কাজে ব্যবহার হয়?
না। ভিপিএন শুধু আনঅথরাইজ বা ই-লিগ্যাল ওয়েবসাইট ভিজিট করার জন্য ব্যবহার হয় না। ইতিপূর্বে বলা হয়েছে যে ভিপিএন ইন্টারনেট এ সেইফ ও সুরক্ষিত রাখতে ব্যবহার হয়। যাতে হ্যকাররা হ্যাক করে নিয়ে না যেতে পারে। কিন্তু প্রথম প্রথম ভিপিএন শুধুমাত্র সরকারি প্রতিষ্ঠান ও বড় বড় ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে ব্যবহার হতো যেন ইন্টারনেটে সেফ থাকার জন্য
ভিপিএন ব্যবহার করলে কি লুকিয়ে থাকা যায়?
ভিপিএন ব্যবহার করে কি ইন্টারনেটে লুকয়ে থাকা যায় মানে ইন্টারনেটে আপনার কোনো পরিচয় ই নাই। ব্যপারটা একদমই ভূল ধারনা তবে হ্যা আপনি ভিপিএন ব্যবহার করে আপনার ডেটার উপর এক্সট্রা সিকিউরিটি এড করতে পারবেন যাতে হ্যাকাররা হ্যাক না করতে পারে। তবে আপনি ভিপিএন ব্যবহার করে ই-লিগ্যাল কিছু করেন। এবং কোনো অথরিটি যদি চায় আপনাকে শনাক্ত করতে পারবে। যদিও বের করা কঠিন হবে তবে বের করা সম্ভব। তাই ভূলেও ভাববেন না যে ভিপিএন ব্যবহার করে উল্টাপাল্টা কিছু করবেন আর সেটা কেউ ধরতে পারবেনা।
ভিপিএন আর প্রক্সি কি একই জিনিস?
প্রক্সি আপনার আইপি এড্রেসকে হাইড করে আর ভিপিএন আপনার ডেটাকে এনক্রিপ্ট করে পাশাপাশি আইপি হাইড করে। ভিপিএন এ এক্সট্রা লেয়ার সিকিউরিটি আছে যেটা প্রক্সি তে নেই। প্রক্সি ব্যবহার করে হয়তো আপনি ব্যান করা কোনো ওয়েবসাইট ভিজিট করতে পারবেন কিন্তু আপনার যেই ডেটাগুলো সার্ভারে পাঠাবেন সেগুলো এনক্রিপ্টেড থাকছে না। এই হচ্ছে ভিপিএন ও প্রক্সির মধ্যে পার্থক্য।
ভিপিএন বাংলাদেশে অবৈধ?
না ভিপিএন বাংলাদেশে অবৈধ না। হ্যা কিছু দেশ আছে যেখানে ভিপিএন অবৈধ। যেমন চিন, রাশিয়া। এই দেশগুলোতে ভিপিএন ব্যানেড। তবে বাংলাদেশে ভিপিএন বৈধ। বিটিআরসি এই লিংক থেকে ভিপিএন ব্যবহারের নিয়ম কানুন সম্পর্কে আরো বিস্তারিত তথ্য পেয়ে যাবেন। আশা করি লিংকে ভিজিট করে সেগুলো পরে নিবেন।
